কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৩ এ ০২:০০ PM
কন্টেন্ট: গল্প নয় সত্যি
শেখ মোহাম্মদ মাঈনুদ্দিন এর সাফল্য গাঁথা
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। স্বপ্ন পূরণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ যে কেউ ছুঁতে পারে সাফল্যের চুড়া। শুধু প্রতিবন্ধিতা কেন যেকোনো বাঁধাই তার সামনে দেয়াল হয়ে দাড়াতে পারে না। আমাদের শেখ মোহাম্মদ মাঈনুদ্দিন এমনই একজন মানুষ যার দৃষ্টিহীনতা তার লক্ষ্য অর্জনে বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারেনি।

শেখ মোহাম্মদ মাঈনুদ্দিনের বাসার সামনে আমরা সমাজসেবা পরিবার
শেখ মোহাম্মদ মাঈনুদ্দিন চট্টগ্রাম জেলাধীন রাউজান উপজেলার নোয়াজিষপুর ইউনিয়নের নদিমপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি অত্র উপজেলার উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রতিবন্ধী ক্ষুদ্রঋণ খাতের একজন ঋণগ্রহীতাও। এ পর্যন্ত তিনি তিন বার অত্র কার্যালয় থেকে ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণ করেছেন এবং ঋণ নিয়ে সফলতাও পেয়েছেন। এই সফলতার গল্প শোনার জন্য উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় রাউজানের একটা টিম নিয়ে আমরা গিয়েছিলাম তার বাড়িতে।
দুই কন্যাসন্তান আর স্ত্রী রেনু আক্তারকে নিয়ে তার সুখের সংসার। তার দুই মেয়ের বড়টি ১০ম শ্রেণীতে ও ছোটটি ৫ম শ্রেণীতে পড়ছে। তিনি তার পরিবারের একমাত্র উর্পাজনক্ষম ব্যক্তি। প্রতিবন্ধীতার বাঁধা কাটিয়ে পরিবারে এনেছেন আর্থিক স্বচ্ছলতা। সকল বাঁধা কাটিয়ে প্রতিকূল পরিবেশে পরিবারে আয় উপার্জন করার পথ কিভাবে সুদৃঢ় করলেন-এই প্রশ্ন করতেই একগাল হেসে জানালেন সমাজসেবা কার্যালয়ের ক্ষুদ্রঋণের সুফলের কথা। জানালেন কিভাবে এই ঋণ গ্রহন করে নিজেকে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করেছেন।

নিজেদের ক্ষেতে শেখ মোহাম্মদ মাঈনুদ্দিন ও তার স্ত্রী রেনু আক্তার
প্রথমেই শোনালেন নিজের দুর্ভাগ্যের কথা। এক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি তার দৃষ্টি শক্তি হারান। এসএসসি পর্যন্তই পড়াশোনা করেছেন । দৃষ্টিগত সমস্যা আর পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে পড়াশোনা বন্ধ হলেও মনে অদম্য ইচ্ছা ছিল নিজেকে স্বাবলম্বী করার, নিজের পায়ে দাড়ানোর। তখনই উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়, রাউজান তার এই স্বপ্ন পূরণে বন্ধুর মতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। তিনি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রথম ঋণ গ্রহণ করেন 2008 সালে। ত্রিশ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে প্রথম সবজি চাষ শুরু করেন । সাফল্যও পান প্রথম চেষ্টায়। তারপর আরও বড় পরিসরে কিছু করার চিন্তা করেন তিনি। এরপর 2012 সালে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে দ্বিতীয়বারের মতো ত্রিশ হাজার টাকা ঋণ নেন এবং নিজের কিছু পুঁজি মিলিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। মাছ চাষেও আসে সাফল্য। আগের চেয়ে শেখ মোহাম্মদ মাঈনুদ্দিনের সংসারে স্বচ্ছলতা বেড়ে যায়। বর্তমানে তার সংসারের আয় আসে মাছ বিক্রি করে। এক সময় বড় ভাইয়ের উপর নির্ভরশীল শেখ মাঈনুদ্দিনের বর্তমান আর্থিক উপার্জন ১২০০০-১৫০০০ টাকা। আর নিজের করা সবজি ক্ষেত থেকে নিজেদের দৈনিন্দিন প্রয়োজনীয়তাও মিটে যায় তাদের।
শেখ মোহাম্মদ মাঈনুদ্দিনের পরিবার
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি দুকক্ষের একটি পাকা বাড়িও পেয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় রাউজান কে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন সমাজসেবার প্রতিবন্ধী ঋণ তারঁ জীবনের জন্য সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।
শেখ মোহাম্মদ মাঈনুদ্দিনের সফলতার গল্প শুনতে শুনতে অনেক বেলা গড়িয়ে যায়। আমরা তার মাছের পুকুর আর সর্বশেষ 2019 সালে নেওয়া পঁচিশ হাজার টাকা দিয়ে করা ছোট পরিসরের কলা বাগান ও সবজি বাগান দেখি- দেখি শেখ মোহাম্মদ মাঈনুদ্দিনের প্রশান্তিমাখা মুখ যা তার সাফল্যের মতোই উজ্জ্বল। আমরা বিদায় নিতে নিতে খেয়াল করি নিজের পরিবারের জন্য একটা স্থায়ী বাসস্থান তৈরি করতে পেরে এবং পরিবারের আর্থিক ভিত শক্ত করতে পারার আনন্দে শেখ মোহাম্মদ মাঈনুদ্দিনের চোখে মুখে সুখের আভা খেলা করে।